মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকার হাসপাতালে পড়ে অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যু: স্বামী সাফি উল্লাহকে এক দিনের রিমান্ড

ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যু মামলায় আদালত শনিবার তার স্বামী সাফি উল্লাহ (৪৫)কে এক দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান ঢাকার সিএমএম আদালতে আসামিকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চান। সেই আবেদন মোকাবেলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ রিমান্ড বাতিল ও জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনা সম্বন্ধে পুলিশ ও মামলায় দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা থেকে ঝিলিক বাজারে পড়ে মারা যান। শনিবার ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমন্ডি মডেল থানায় এসে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন এবং পুলিশ হাসপাতাল থেকে সাফি উল্লাহকে গ্রেফতার করে।

এজাহারে বর্ণিত ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সাফি উল্লাহর তীব্র পেট ব্যথা হলে ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল তাঁকে গুলিস্তান থানাধীন ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক শারীরিক অবস্থা ও রিপোর্ট দেখে ভর্তি ও চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেখানে ফাঁকা সিট বা কেবিন না থাকায় রোগীকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়।

রিটেইন ও চিকিৎসার পর্যবেক্ষণের জন্য ঝিলিক হাসপাতালে থাকতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে সাফি উল্লাহকে দেখাশোনায় তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসেন। তিনি সুস্থবোধ করতে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। দুপুর সোয়া একটার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিওকলে কথা হয় এবং ঘন্টাব্যাপী সময় পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান যে ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা থেকে পড়ে গেছেন এবং পরে তিনি মারা যান।

মামলা ও তদন্ত এখন চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার পেছনের কারণ ও অভিযুক্তদের ভূমিকা তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে। আদালত রিমান্ডের মেয়াদ শেষে পরবর্তী শুনানিতে তদন্ত প্রতিবেদন ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছে।