অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন। তিনি বলেন, বাজেটের প্রধান লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করা এবং সরকারি খরচে অপচয় কড়াকড়ি করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
অর্থমন্ত্রী বক্তব্যে জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের দ্রুততা কিছুটা কমে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৩.৩ শতাংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পরিবারের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলের প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার। এজন্য প্রতিটি বাজেট খাতে অপচয় কমানো, অপ্রধাণ ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভর্তুকিতে কিছু সমন্বয় আনা হলেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছে—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বৃদ্ধির মাধ্যমে এমন কার্যক্রমগুলোকে মর্যাদাশীল ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রয়োজনে সম্পূরক বাজেটে নির্দিষ্ট ব্যয় ও ঘাটতির সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
বর্তমানে সংসদের কার্যবিধি অনুযায়ী স্পিকার সংসদের সীমাবদ্ধ সময়ের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় বাদে অন্যান্য ব্যয় সংক্রান্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেন। স্পিকার স্মরণ করান যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৯ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচনা করা হয়, কিন্তু সেগুলো ভোটের স্থলে নয়।
স্পিকার উল্লেখ করেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে এবং বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য—বেগম রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ—মিলিয়ে মোট ৩০৪টি ছাঁটাই (কাট প্রস্তাব) নোটিশ দিয়েছেন। অনুপস্থিত সদস্যদের পক্ষে ছাঁটাই প্রস্তাব দাখিল করা যাবে না বলে স্পিকার জানান এবং সুষ্ঠু আলোচনার জন্য সকলের সহযোগিতা চান।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিকভাবে আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন খাতের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব ও আলোচনা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে—অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন।
স্পিকার জানান, এ তালিকাভুক্ত খাতগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য আলাদা সময় দেওয়া হবে এবং বাকি মঞ্জুরি দাবি ও অন্যান্য বিষয় সরাসরি ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





