বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটের রায় মেনে নিন, জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর

জানানো হয়েছে, যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে ১৯৯৬ সালের মতো কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে — এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে মানুষ বাধ্য হয়ে রাজপথে নামবে।

শনি বার বিকেলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে মূলত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে ধরা হয়।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘আমাদের পরিষ্কার দাবি, গণভোটের ফল মানতে হবে। যদি তা না করেন, তাহলে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে—তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনে বিল পাস করাতে হয়েছিল। এবারও আপনাদের কাছে আমরা বোঝাব: ভালোয় ভালোয় রায় মেনে নিন, জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই; কেউ আমাদের ওপর দমন-নির্যাতন বা হুমকি-তারমাখি করবেন না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের সময় সীমিত করে দিলাম—দীর্ঘকাল সুযোগ দেওয়া হবে না। এই সময়ের মধ্যে যদি পরিবর্তন ঘটে, আমরা তা স্বাগত জানাবো; না হলে আপনাদের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’’

বাজেটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুর বলেন, ‘বাজেটে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া দেওয়া স্বাভাবিক এবং এটি গণতন্ত্রেরই এক অংশ। এ নিয়ে রাগ করার কিছু নেই। ধৈর্য হারালে দেশের মানুষের জন্য দায়িত্ব পালন করা কঠিন হবে। যখন জনগণ দেখবে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তখন তারা নীরবে বসে থাকবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধির কারণে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে—যা শফিকুর দাবি করেন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের কথা বলা অনুচিত; প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার দায়বদ্ধতা বেশি, কারণ তিনি দেশের প্রশাসনিক প্রধান। বিশ্ববাসী তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করে।’’

সমাবেশে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা একপক্ষে গণভোটের রায়ের প্রতি সরকারের ন্যায়ের আহ্বান জানান এবং অপরপক্ষে সরকারের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেন—জনগণের রায় উপেক্ষা করলে তা শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নেওয়া হবে না।