শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমন, মাদক ও মানবপাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাসমান স্টেশন ও সুন্দরবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই তথ্য জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ পরিচালনায় কোস্ট গার্ড সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, সরকারী নীতিনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও বনদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে দুইটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে—“অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”। ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কাজের ফলে দস্যু চক্রগুলো এখন ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, জানান মহাপরিচালক। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বনদস্যুদের ঘাঁটিস্বরূপ পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপনের ফলে দস্যুদের রসদ, লজিস্টিক, অস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মহাপরিচালক সম্প্রতি জয়মনির ঘোলের কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতি নয়, এ ধরনের ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। ঘটনার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। তদন্তের আলোকে প্রতিপাদিত আইন অনুযায়ী কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাপরিচালক সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুন। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যে কোনো অপরাধমূলক তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানাতে প্রত্যেকে এগিয়ে আসুন—এতে অপরাধ দমন ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা হবে।