সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে

ধানমন্ডি ৯/এ রোডের একটি ভবনে ১১ বছরের গৃহকর্মী রিক্তা মনি নিচে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তর আজ রোববার জানিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী ধানমন্ডি মডেল থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহনেওয়াজ বাপ্পি আদালতে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন, তবে শুনানি শেষে আদালত দুজনকে প্রত্যেককে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন, আর রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে ধানমন্ডি ৯/এ রোডের ৩৭ নং বাড়িতে রিক্তা মনি দশতলা থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর জখম হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মরগে পাঠায়।

নিকটাত্মীয় ও মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বাবা মো. শাহিন ধানমন্ডি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ওই রাতেই সবিবুর রহমান ও ফারাহ নুসরাতকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। রিক্তা মনি সুনামগঞ্জ জেলার সালনা থানার একটি গ্রামের বাসিন্দা; তিনি চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রিক্তা মনিকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং ঘটনার সময় তাকে বারান্দা বা ছাদ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রিক্তার দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বাম হাত ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অপরিহার্য। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা এখন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।