বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নীতি সহায়তা বাড়লে রফতানি আয় দেড়শ’ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মনে করেন, যদি বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি আরও পাঁচ-ছয়টি খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হয় তাহলে দেশের রফতানি আয় সহজেই দেড়শ’ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। র‌্যাপিডের গবেষণায় সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে যে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরে রফতানি পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং বাজারভিত্তিক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, রফতানি বাজারে স্থানজনিত কারণগুলো বিবেচনায় আনলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা থাকলেও সব বাজারেই শুল্ক সুবিধা বজায় থাকবে না—ফলে কিছু পণ্যের রফতানি কমে যেতে পারে।

র‌্যাপিডের রিপোর্ট অনুযায়ী, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে ভারত, ইউরোপ ও চীনের মতো বড় বাজারগুলোতে রফতানি শূন্য দশমিক দুই শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই সম্ভাব্য ক্ষতির সামনে থেকে খাতগুলোতে সক্ষমতা বাড়ানো ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য উন্নতকরণ জরুরি বলে গবেষকরা মনে করেন।

বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদনশীল খাত মিলিয়ে যেসব পণ্যের রফতানি এক মিলিয়ন ডলারের বেশি, সেগুলোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৪টি। র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, এসব খাতে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা এবং রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা দরকার।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রীও এই দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৈরি পোশাক খাত একা নয়—আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে নীতিগত সহায়তা দিলেই রফতানি আয় বাড়বে এবং ১৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে; পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হবে। মন্ত্রী পুরাতন সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, আগামী উদ্যোগগুলো বাস্তবসম্মত ও টেকসই হতে হবে।

এজন্য সময়োচিত কৌশল ও কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সফরে চীনের সঙ্গে পাটশিল্প উন্নয়নে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে যা খাতে সহায়তা করবে।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে নামানোর কথা থাকলেও সরকার জাতিসংঘে করা আবেদনের মাধ্যমে সময় তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানোর—অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত—অনুরোধ করার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করছে। র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, যদি এই অতিরিক্ত সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো না হয় তবে এলডিসি উত্তরণের সুফল পাওয়া যাবে না। তাই মাত্রা সময়ে নীতিগত প্রস্তুতি ও খাতভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া জরুরি।

সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে: রপ্তানি বহুমুখীকরণ দ্রুতভাবে করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলো শনাক্ত করে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, এবং রফতানি প্রণোদনার বিকল্প সুবিধা ও নীতিসমূহ তৈরির মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কমাতে হবে—তাহলে বাংলাদেশের রফতানি আয় দেড়শ’ বিলিয়ন ডলারের আশার লক্ষ্যটি বাস্তবে পরিণত হতে পারে।