সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদি হত্যা মামলা: তদন্ত ১৭তমবারও পিছিয়ে, শুনানি আগামী ১৫ জুলাই ধার্য

ঢাকা উত্তর হবিগঞ্জ আদালতে হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় শুনানি ১৭তমবার পেছিয়ে আগামী ১৫ জুলাই ধার্য করেছেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। রোববার (২৮ জুন) সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা — ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দায়ের করে। অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হওয়ায় বাদী ইনকিলাব মঞ্চ এর সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে শ্রুতি চলাকালে এতে আপত্তি তোলেন। প্রথমত মামলার শুনানি ১২ জানুয়ারি ছিল; আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চাইলে আদালত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন। ওই দিন বাদীর আপত্তি ও নারাজি উত্থাপনের পর আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের জন্য পাঠায়।

হাদির জীবন ও হামলার বিবরণ: হাদি, যিনি ১৩তম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সম্প্রতি রাজনৈতিক আন্দোলন ও ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির কারণে পরিচিতি পেয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর তিনি গণসংযোগ করার সময় বিজয়নগর এলাকায় এক হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় পিছন থেকে আসা মোটরসাইকেলের আরোহীরা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হলেও রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হলে সেদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যু ঘোষিত হয়।

প্রাথমিক মামলা ও তদন্ত: হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা করেন; পরে মামলায় হত্যার ধারাও (ধারা ৩০২) যুক্ত করা হয়। শুরুতে থানার তদন্ত শেষে মামলার দায়িত্ব নেয় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, যারা অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করেন।

অভিযুক্তদের তালিকা: অভিযোগপত্র অনুযায়ী প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ (রহুল/দাউদ) (৩৭) ও তার পরিবার-সংলগ্ন several নাম রয়েছে — মো. হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী (৩৪), সিবিয়ন দিউ (৩২) — যার উপর ভারতে পলায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে— সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম (রাজু) (৩৭), অস্ত্র উদ্ধার মামলায় গ্রেফতার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী), ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিমসহ তালিকার শেষের কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার বিশ্লেষণ: তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে প্রাথমিকভাবে দেখা যায় ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। পাশাপাশি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করে তাকে গুলি করে হত্যা করে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ব্যাহত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়-হতাশা সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালিয়েছেন।

চলমান কার্যক্রম: বর্তমানে মামলার আরও তদন্ত প্রতিবেদন পেশের অপেক্ষায় আদালত। বিভিন্ন দফায় তদন্ত শেষ না হওয়ায় এবং সিআইডির প্রতিবেদন দাখিল ব্যাহত হওয়ায় শুনানি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে; সর্বশেষ এটাই ১৭তম স্থগিতাদেশ। আগামী ১৫ জুলাই পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।