ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনডিটিভিকে বলেছেন, সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে তিনি চলতি বছরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয় — এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত।
শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়গুলো বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলটি কাগজে লেখা কোনো সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি, মানুষ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অতীতেও দলটি নিষিদ্ধ ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও জনগণের শক্তির ধারে প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে—এটাই দলের প্রকৃত শক্তি, বললেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তার সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হচ্ছে, উগ্রবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তিনি তুলে ধরেছেন যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলা শুধু একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধেই আঘাত।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও তিনি করেছেন। তিনি মনে করেন দলটির পুনরুত্থান কোনো সরকারের অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের সমর্থন কর্মসূচি অব্যাহত আছে, pointed out she.
ভারতে অবস্থান এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংযুক্ত আছেন এবং মন সবসময় বাংলাদেশেই থাকে। দেশের মানুষ, দলের নেতাকর্মী ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তিনি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছেন।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে শেখ হাসিনা বললেন, ‘‘আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সেই শক্তিই আমাকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে রাখছে।’’
(এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সারমর্ম তুলে ধরা হলো; বক্তব্য অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে)





