মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের রাজনীতির অতীত বিতর্কে না গিয়ে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা জরুরি। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হলে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে দেখতে চান। বাজেট প্রণয়নের সময় বাস্তবতা, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। বাস্তবমুখী ও কার্যকর বাজেট দিতে সরকার সবসময় চেষ্টা করে, তবে কোনো বাজেটই একসাথে সব সমস্যা সমাধান করতে পারে না—তারেক বলেন, তবুও সরকার সর্বোচ্চ জ্ঞান, বিবেক ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন বাজেট করেছে যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পান।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আগে যে কর ছিল তা তুলে রাখা হয়েছে। ফলত বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা অতীতে প্রায় নিয়মিতভাবে ঘটত। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিল—প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন। দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি লঘু হয়ে পড়েছিল; হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির ছিল এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কষ্টকর করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারের সংকটের ফলে বহু মানুষ দায়িত্বরত সম্পত্তি হারিয়ে ভেঙে পড়েছে, কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বড়ভাবে কমে যায় এবং টাকার বিনিময় হার প্রায় ৪০ শতাংশের মতো অবমূল্যায়িত ছিল। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও আয়বিহীন ‘ভ্যানিটি প্রকল্পে’ নেয়া বিপুল দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা এখনও বহন করা হচ্ছে।

তবে সরকার এসব সংকট অস্বীকার করে না, ন্যায্যতা খুঁজে অজুহাতও তৈরি করবে না—প্রধানমন্ত্রী বলেন। তিনি বললেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে তৎপরতা চালানো হয়েছে এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এখন সংকট কাটিয়ে আরও শক্ত মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তিনি সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।