সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, জাতীয় সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায়।
বিলে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত, ক্ষতিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট অপসারণ করতে বাধ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও মানহানির সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও সংযোজিত হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।
বিরোধী দল ও কিছু সংসদ সদস্য বিলটি আরও সমালোচনার ভিত্তিতে পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবটি দেন বিএনপি–পন্থী সংসদ সদস্যগণসহ বিরোধী আইনপ্রণেতারা — বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, এম. আব্দুল গফুর, জাহিরুল ইসলাম, জি. এম. নজরুল ইসলাম, আমির হামজা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তারা বিলটি জনগণের মতামত যাচাই এবং অধিকতর বিশদ পর্যালোচনার জন্য কমিটিতে পাঠানোর দাবি করেন; তবে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার আইন আছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমন কার্যকর প্রয়োগ ব্যবস্থা না থাকায় সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সরকার অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাকে আপত্তিকর কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়ার অধিকারও এসব সংস্থাকে প্রদান করা হবে বলে বিল প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।
এর আগে ২৭ জুন বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেয় সংসদ। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আজ বিলটি plenoতে পাস করে।
সরকার বলছে, সংশোধনীটির লক্ষ্য হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং মানহানি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধ করা। সমালোচকরা বলছেন, প্রয়োজনীয়তা ও স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন।





