শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গুজব, সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ: আমির খানের নারী জীবন এক নজরে

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান প্রায় দীর্ঘ সময় ধরেই ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। চলতি বছরই তিন দিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ের পিঁড়িতে তুলতে যাচ্ছেন তিনি—গতবছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে গৌরীকে প্রথমবার প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির। তাঁরা জানালেন, বহু বছর আগে পরিচয় থাকলেও মাঝখানে যোগাযোগ না থাকায় আবার পরে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অতিথি-নৈকট্য মিলিয়ে আগামী ৫ জুলাই দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন থাকবে বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

তবে আমিরের প্রেম-সম্পর্ক এবং ব্যক্তিজীবনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তাঁর প্রথম পরিচিত সম্পর্ক ছিল রিনা দত্তের সঙ্গে—একই এলাকার কিশোরাবস্থায় রিনার সঙ্গে প্রেমের স্বীকার ছিল আমিরের। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৮৬ সালে গোপনে বিয়ে করেন তারা এবং সংসারে আসে দুই সন্তান—জুনেইদ খান ও আইরা খান। দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্যের পরে ২০০২ সালে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন, তবুও সন্তানদের কারণে তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ রেখেছেন দুজনেই।

রিনার সময়ের পরে আমিরের নাম নানা অভিনেত্রী ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িয়েছে। ১৯৯১ সালে ‘দিল হ্যায় কে মানতা নেহি’র পর পূজা ভাটের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন আসে, যদিও পূজা তা বন্ধুত্ব হিসেবে পাশ কাটিয়ে দিয়েছেন। ১৯৯৫ সালের ‘বাজি’ শুটিংয়ের সময় মমতা কুলকার্নির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল এবং ২০০০ সালের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ মুক্তির পর প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেম-গল্প কইরেও বহু রটনা ছড়ায়—কয়েকবার এমন গুঞ্জন ছিল যে তাদের গোপনভাবে বিয়ে পর্যন্ত হয়েছে।

২০০৫ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক ও তাদের একটি সন্তান থাকার দাবি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; আমির এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এছাড়া ‘দঙ্গল’ ছবির পরে ২০১৬ সালে ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা গুঞ্জন দেখা যায়; বলিউডে এধরনের আলোচনা‑সমালোচনা ছিল চলমান। এসব অনেকটাই গণমাধ্যম ও অনলাইন জল্পনা—কিছু দিকেই কেবল গুজব থেকেই থাকে।

পেশাগত সফরে গিয়ে ২০০১ সালে ‘লগান’ ছবির সেটে কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা পরে ভালোবাসায় পরিণত হয়। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে আমির ও কিরণ এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাদের ঘরে আসে পুত্র সন্তানের খবর—আজাদ রাও খান। এই সংসারও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; ২০২১ সালের জুলাইয়ে ১৬ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানেন তারা।

কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি কয়েক বছর ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রেখেছেন। পরে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গতবারের জন্মদিনে তিনি গৌরীকে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত টেনে এনেছেন সম্পর্কটি—বহু ফাঁকফোকর পেড়ে আবার একসঙ্গে এসেছেন দুজন।

ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি আমিরের সম্পত্তি ও জীবনের অন্য দিকও জনস্বার্থকে আকর্ষণ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ও পালি হিলে বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়াও মহারাষ্ট্রের পঞ্চগড়ে একটি বিশাল খামারবাড়ি রয়েছে বলে জানা যায়।

সংক্ষেপে, আমির খানের জীবন ছিল প্রেম, গুটিকয়েক কঠিন বিচ্ছেদ, মাঝে গুঞ্জন-অলঙ্কার অনেকটা ও বলিউড‑জীবনের নিয়মানুগ উঠানামা—এবং এবার গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।