জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার; এ দেশকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভূমত্বের প্রশ্নে কারো সঙ্গে কোনো আপস নেই — এক ইঞ্চি জমি বা একটা বালুকণাও কাউকে ছাড়তে দেব না। প্রয়োজনে দেশের প্রতি প্রেম ও ঈমানিক শক্তি নিয়ে আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–র পাশে দাঁড়াবো।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় নেত্রকোণা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে বাড়তি উত্তেজনা ও প্রতিবেশী দেশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা আমাদের বন্ধু বললেও যদি মানুষকে বিব্রত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, তাতে কি সত্যিকারের বন্ধুত্ব প্রতীয়মান হয়? আমরা সবাই বন্ধুত্বের আহ্বান জানাই, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আপস কখনোই সম্ভব নয়।’
বিজিবির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরো জানান, ‘বিজিবির হাতে অস্ত্র থাকবে, আর আমরা বুকের দেশপ্রেমকে অস্ত্র করে দাঁড়াব। বহু স্থানে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে বলেই ওরা অনেক কিছু করতে পারেনি।’
সংসদে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগে সরকার বাধা দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনা করার জন্য একটি নোটিশ দিয়েছিলাম। তবে সরকার এখনও নোটিশটি সংসদে আনার অনুমতি দিচ্ছে না। আগামী ৭ তারিখ সংসদ শুরু হলে আমরা আবার চেষ্টা করব। যদি নোটিশ গ্রহণ না হয়, প্রয়োজন হলে আমাকে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে হবে। আমি চাই এটা সুন্দরভাবে উঠে—দেশ যে ঐক্যবদ্ধ, সেটার একটি বার্তা বিশ্বের কাছে পাঠানো দরকার।’
মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর মন্তব্য করেন, সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি বিল করেছে; আমাদের দাবি মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। ‘নিয়ন্ত্রণ মানে কিছু রেখে চেপে রাখা—আমরা তা চাই না। সংসদে আমরা জাতির স্বার্থে সরাসরি কথা বলব।’ তিনি আরও বলেন, মাদকের গ্রাস শুধু কিশোরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বহু বয়সেই মাদকের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মাদকের সেবন ছাড়াও উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন বন্ধ করতে হবে।
সরকারদলীয় এক সাংসদ যে মন্তব্য করে বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার মাধ্যমে মাদকের বড় চালান আসে—এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর বলেন, ‘উনি জানেন না কীভাবে এসব চালান আসে? কারা জড়িত? আমরা চাই মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী ভূমিকা উনিই তার বাড়ি থেকেই শুরু করুন।’
সেনাবাহিনীর নতুন ব্রিগেড চার খলিফার নামে নামকরনের পর ভারতের অসন্তোষের গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশে গুরুত্বপূর্ণ জাঁচিত বা জাতীয় ব্যক্তিত্বের নামে নামকরণের ইতিহাস আছে। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়; যদি কেউ এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, আমরা তাদের উষ্মার ওপর গরম শ্বাস ছাড়ব।’
নেত্রকোণায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) সাংসদ মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় দলীয় নেতারা।





