শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে কোনো আপস হবে না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশ আমাদের সবার—এ দেশকে আমরা নিজে রক্ষা করবো। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কারও সঙ্গে কোনো কমপ্রোমাইজ (আপস) নয়; এ দেশের এক ইঞ্চি জমি, একটি বালুকণাও কাউকে ছাড়বো না। প্রয়োজনে দেশপ্রেম ও ঈমানের শক্তি নিয়ে আমরা সবাই বিজিবির পাশে দাঁড়াবো।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় নেত্রকোণা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্ত উত্তেজনা ও পার্শ্ববর্তী দেশের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বলা হয় তারা বন্ধু দেশ। বন্ধু কি মানুষকে এভাবে বিব্রত বা ক্ষতিগ্রস্ত করে? বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হওয়ার কথা নয়। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব পোষণ করতে চাই, কিন্তু যদি কেউ দেশের স্বার্থকে ক্ষুন্ন করে, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।

বিজিবিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিজিবির পাশে দাঁড়াবো; বিজিবির হাতে অস্ত্র থাকলে আমাদের বুকের দেশপ্রেমই আমাদের অস্ত্র। বহু জায়গায় মানুষকে দাঁড়াতে দেখে তারা কিছু করতে পারেনি।’ তিনি আরো যোগ করেন যে দেশের স্বার্থে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সংসদে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে একটি নোটিশ জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার তা আলোচনার অনুমতি দিচ্ছে না। সংসদ আগামী ৭ তারিখ থেকে পুনরায় শুরু হলে আমরা আবার চেষ্টা করব। নোটিস গ্রহণ না হলে প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে কথা বলেই বিষয় তুলে ধরব। তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন, সংসদ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে মুখ খোলা হলে সারা বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন আনার পরিকল্পনা করেছে—কিন্তু আমাদের দাবি মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। ‘নিয়ন্ত্রণ’ মানে কিছু রেখে চেপে রাখা; আমরা তা চাইলাম না। সংসদে আমরা জাতির স্বার্থে সোজাসাপটা কথা বলব এবং মাদকের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন—সবটাই বন্ধ করতে হবে।

সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি মাদকচালানের উৎস নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় দিয়ে মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসছে—এ বিষয়টি কি উনি জানেন না? কারা জড়িত, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী ভূমিকা যদি সত্যিই আছে, তবে সেটা উনার বাড়ি থেকেই শুরু হোক।’

সেনাবাহিনীর নতুন ব্রিগেড চার খলিফার নামে নামকরণ ও ভারতের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, বিশ্বের অনেক দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করার ইতিহাস আছে; এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদি কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, আমরা তা মেনে নেব না এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেখাবো।

মতবিনিময় সভায় নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।