বরিশাল থেকে বছিৎ মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৫ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে সই করিয়েছেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে আগেই একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভাইরাল হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওটি গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ নিজেই প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়। একজন ভুক্তভোগীকে ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে ডাকতে দেখা যায়; এরপর আরও একজন কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করলে লিটুর সঙ্গীরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে বের করে দেন। চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়।
আব্দুল আজিজ জানান, লিটু একদল সন্ত্রাসী নিয়ে এসে দুইটি চেকে তার সই নেন এবং স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর করান। তিনি বারবার বিরত থাকার চেষ্টা করলেও লিটু অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন।
একপর্যায়ে ঘটনায় গুঞ্জন ওঠে, অভিযুক্ত লিটু কোনোভাবে যুবলীগ/যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে বাংলাদেশ যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না রোববার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদে থাকা ব্যক্তি নন। মুন্না বলেন, কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনাটিকে যুবদলের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করছে এবং তিনি পুলিশের কাছে অভিযুক্তকে দায়ের করা ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
ঘটনাটি ২৭ জুন সন্ধ্যার পর বরিশাল সদর রোডে ঘটে বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় তৈরি করে। অভিযুক্ত লিটুর গ্রেফতারে পুলিশ কি ধারাে মামলা করেছে এবং তাকে কতদিন রিমান্ডে নেয়া হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পুলিশ বিজ্ঞপ্তি এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তীতে জানাবে।





