বাগেরহাটে “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার, ০৬ জুলাই সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) যৌথভাবে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।
দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী স্বাধীনতা উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার স্বাধীনতা উদ্যানে এসে শেষ হয়। র্যালির পরে উদ্যানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মেজবাহ উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু রাসেল, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন, সরকারি পিসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আলিমুজ্জামান, বিআরডিবির উপপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আলোচনা সভায় বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি গ্রামীণ উন্নয়ন। গ্রামকে স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও আধুনিক করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিআরডিবির প্রকল্পগুলো নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-র আওতায় ৮ জন সদস্যের মাঝে মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৯ জনকে পুরস্কৃত করা হয় এবং ৬টি সফল সমিতির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়, যা পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণের আহ্বানকে জোরদার করবে।
অনুষ্ঠানটি সামাজিক সংহতি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে।





