মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সমাজ বদলাতে দরকার সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: জামায়াত আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এক শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরটি গত ২ জুলাই শুরু হয়ে শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি বলেন, নেতৃত্বে ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাশিবিরটি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ধারাবাহিক আলোচনা উপস্থাপন করেন; এদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

ডা. শফিকুর রহমান বক্তৃতায় বলেন, উপমহাদেশে মুসলমানরা বহু ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। তিনি যোগ করেন, আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহকে ইখলাস ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি ছোট ভুলে ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, জীবন-জমি ও সম্মানের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

জামায়াতের সামনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানরা সার্বজনীন গোষ্ঠী হলেও অনেক সময় তাদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন এবং জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় দলটির প্রতি আস্থা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; ক্ষমতা অর্জন নয়। আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজের ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতাকে দমন করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কিতাব ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরলেই মানুষ পথভ্রষ্ট হয় না। পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি নারীদের সম্মান ও দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী, গ্রহণযোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে হবে। দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যক্তির যে স্তরের কর্মীই হোন না কেন, শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাকে মূল্যায়ন করা উচিত—এমন বক্তৃতা তিনি দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যদের তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে ব্যক্তিগত ও সামूहিকভাবে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।