মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি—রাতভর উদ্ধার অভিযান চলছে

টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত্রে ও ভোরের দিকে বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে উখিয়া ও কক্সবাজার শহরের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মাটি চাপা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার মধ্যে অন্যতম কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর (৫০) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘর ভেঙে চাপা পড়েন। পরিবারের তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও একাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন মারা গেছেন। উখিয়ার ১১ নম্বর শিবিরে রাত তিনটার দিকে নারী ও শিশুসহ चारজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। ওই ঘটনায় আরো একজন আহত রয়েছেন।

একই অঞ্চলের কুতুপালং ৭ নম্বর শিবিরের ডি/৭ ব্লকে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পাহাড়ি ঢলে আট বছরের নয়—বার করার হিসেবে—সাত বছর বয়সী একরাম (৭) মাটিচাপায় মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই শিবিরের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। শিবিরের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী শিবিরের ডি/৬ ব্লকেও রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পাহাড় ধসে বসতঘর চাপা পড়ে। ওই ঘটনায় শিবিরের যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪) নিহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, এসব ঘটনা প্রায় একই সময়ের মধ্যে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা চোখে পড়ে; তাই প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এবং অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই অতিরিক্ত বৃষ্টি হচ্ছে বলে কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আরও দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

উপচারকারী ও উদ্ধারকর্মীরা রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রশাসন পরিস্থিতি মনিটর করছে। বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবেন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিতে পা দেবেন না।