মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড ও একজনকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। সংবাদ সম্মত রায় সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঘোষণা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম।

আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন অভিযুক্তরা হলেন: মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম এবং আছমত। অপর দিকে আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষীয়া এলাকায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় মোট নয়জন সাক্ষীর মধ্যে সাত জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন; এছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

বিচারক রায় ঘোষণার সময় মামলার নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি বিচারপূর্বক পর্যালোচনা করার কথা উল্লেখ করেন। খালাসপ্রাপ্ত আসামি ইদ্রিস আলীর বিষয়ে আদালত বলেন, অভিযোগ প্রমাণের পর্যাপ্ত সপক্ষীয় প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে বরা হয়নি।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী ও গণমাধ্যামের প্রতিনিধি রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে তা সংগ্রহের পর পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।