বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭০ শতাংশ মানুষের গণভোট বৃথা যাবে না: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ যে গণভোটে অংশ নিয়েছে, সেই রায় বৃথা যাবে না। আজ বুধবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী—৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোট বৃথা যাবে না। এটা বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদেও আমাদের দাবি জানাবো, রাজপথে আমাদের আন্দোলনও সমান তালে চলছে; দিনে দিনে এটি আরও বেগবান হবে।”

তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ব্যক্তিগত অহংকারকে প্রাধান্য না দিয়ে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে সব পক্ষকে অনুরোধ করেন। জাতীয় স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

জামায়াত আমির আরও অভিযোগ করেন, সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল জুলাই চার্টার ছিল অন্তহীন প্রতারণার দস্তাবেজ; একই সংসদে দাঁড়িয়ে তারা প্রমাণ করল যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা বলছে সাধারণ মানুষ চারটি প্রশ্ন বুঝে না—তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। “চারটা প্রশ্ন যদি জনগণ না বোঝে, তাহলে ৩১টা কীভাবে বোঝে? জনগণের বিবেচনাবোধে প্রশ্ন তোলে যারা, তাদের গণতন্ত্রে কোনো বিশ্বাস নেই,” বলেন তিনি।

শফিকুর একটি তীব্র অভিযোগও করেন—৫ আগস্টে শহীদ পরিবারদের কাছে অনেকেই যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিল, তো অনেকেই তখন থেকেই নির্বাচনের কথা নিয়ে শুরু করেছে। “শহীদদের তাজা রক্ত তখনও ঝরছিল, মায়ের চোখে তখনও অশ্রু নয়, রক্ত ঝরছিল—তাদের পাশে দাঁড়ানো না করে কীভাবে কিছু রাজনৈতিক দল তখন থেকেই নির্বাচনের জিকির তুলতে পারল? এরা তাদের নিজের সঙ্গীর রক্তেরও মূল্য জানে না,” তিনি বলেন।

সেমিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সরকারের কাছে ত্বরান্বিতভাবে গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও তার বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর রক্তপাত চায় না; তারা গণতান্ত্রিক পথে রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও রূপান্তর দেখতে চায়।

আখতার হোসেন আরও বলেন, সংসদে সরকারের বক্তব্য ছিল—চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটি তারা মানেন আর একটা মানেন না। তবে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ জনগণ ওই চারটি প্রশ্নকে মেনে গণভোট করেছে, তাই জনগণের রায়ের বাইরে গিয়ে আংশিকভাবে মানা গ্রহণ করা যায় না।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সংস্কারের যে প্রস্তাবগুলো চলছে, সেগুলোর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। বেগম জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া তারই দায়িত্ব—এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না, এমনটাই তার বক্তব্য। তিনি আরও বিএনপির বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের নির্বাচনে টাকা গ্রহণের অভিযোগ এনে বলেন, চান তবে তিনি নামধারী তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারবেন।

সেমিনারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।