তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বুধবার (৮ জুলাই) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ভাবমূর্তিতে চালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টিরও বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (এক্স) অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রীর কথায়, এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ মোট ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে; এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩০৬টি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সততা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
মহাদেশীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ক ১৪টি সংস্করণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।





