ভারতের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুক্রবার ২০তম দিনে পৌঁছেছে। তিনি নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই অনশন শুরু করেছিলেন।
ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন করে আসছেন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক এবং অনশন অব্যাহত রাখলে আরও গভীর ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসক সতীশ লাম্বা পিটিআইকে বলেছেন, ২০ দিনে ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৯ কেজির বেশি কমেছে। গ্লুকোজের মজুদ শেষ হলে দেহ প্রথমে চর্বি জ্বালাতে থাকে এবং পরে পেশি ক্ষয় শুরু হয়। বর্তমানে তাঁর রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়েছে, যা পেশি ক্ষয়ের লক্ষণ। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, অনশন চলতেই থাকলে অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলার পরও ওয়াংচুক অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, সরকারের থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙা ভুল বার্তা দেবে। তার বদলে তিনি সবাইকে পার্লামেন্ট অভিমুখী পদযাত্রাকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আগামী ২০ জুলাই এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনস্থল পরিদর্শন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব। তারা ওয়াংচুক ও তরুণ-ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি ব্যক্ত করেন। কেজরিওয়াল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে কেন্দ্রকে আন্দোলনের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ওয়াংচুকের নাম কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর হিসেবে প্রস্তাবও করেন। কেজরিওয়াল আরও সতর্ক করে বলেন, তরুণ সমাজের দাবি না মানলে তিন বছরের মধ্যে সরকার ২০১৪ সালের মত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
কৃষক আন্দোলনের নেতা রাকেশ টিকাইতও অনশনস্থলে গিয়ে তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
দলের স্তরে কংগ্রেসও ওয়াংচুকের দাবিকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল একটি এক্স পোস্টে বলেন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ওয়াংচুকের দাবি তুলে ধরছে এবং তাঁর কষ্ট ও ক্রোধের সাথে তারা সহমর্মী। তিনি আরও অনুরোধ করেছেন যে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করা হবে, পাশাপাশি কেন্দ্রকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্থির থাকা হবে।
সংক্ষেপে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন ইতোমধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া উদ্রেক করেছে—স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি কার্যকর করার প্রতিজ্ঞায় অটল।





