মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বরত পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে স্থানীয় মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সর্তক হওয়া বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে শনিবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তা যে কোনো মুহূর্তে আরও অবনতি হতে পারে। কিছু দেশে ফ্লাইট বাতিল ও আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়—অন্যান্য এলাকায়ও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থভিত্তিক স্থাপনা বা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়—জর্ডানে শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এতে ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি হিসাবে সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-এ।

প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নির্দেশনায় সেন্টকম পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংম্পৃক্ত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নিহত সেনাদের মৃত্যুর দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে; তবে গত সাত রাতের তুলনায় হামলার তীব্রতা কিছুটা কম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরান, সূত্রে বলা হচ্ছে, গত বড় পরিসরের মার্কিন হামলার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। তারা জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি ‘শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যা তারা ভুলতে পারবে না। তেহরান আগে সতর্ক করে বলেছিল, যদি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা হয় তাহলে তার মূল্য পুরো অঞ্চলের পর্যায়ে বহন করতে হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫০০-এর বেশি আহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন বলেও তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদন দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম দফার হামলায় ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন ও লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন—তবে এসব সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থিতিশীলতা ভোটে বড় ঝুঁকি থাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে এমন জায়গা পরিহার করতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নির্দেশনা দ্রুত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।