শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল তা পেয়েছে না। অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় বিরোধীরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় তোলা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতেও এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে না আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তিনি আরো বলেন, বিরোধী পক্ষ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই মিনিটের আলোচনায় কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং সরকারের দিকে অনেক দীর্ঘ সময়ের বক্তৃতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়ার পরও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযোগ করেন, এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংরের গভর্নরের পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে বলে আশঙ্কা করেন এবং বলেন, একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর মতো ঘটনার প্রভাবও বিরূপ।

এর ফলে তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা ‘কালো হাত’ বাড়ছে—এমন আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ বলে মন্তব্য করে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আমানত রক্ষায় সকলে পাহারাদারের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসামঞ্জস্য指ঙ্গ করেন। সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, ফার্নেস অয়েলের অভাব ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে শিল্প বর্ষণ ও দ্রব্যমূল্যের চাপ ইত্যাদি বাস্তবে মানুষকে ভুগাচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক কারণের প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলই সংকটকে তীব্র করেছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।

বিরোধীদলীয় নেতার সতর্কীকরণ—জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ভুল মানুষ করে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসাই কর্তব্য, আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।