শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বিমানে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছ থেকে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা দোয়া করলে আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন।” তিনি হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়ে আরও বলেন, দেশের সমস্যাগুলো মোকাবিলা এবং সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো সফল করার জন্য তারা দোয়া করবেন।

আগামী বছর থেকে হজে সুবিধা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার গঠনের আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও সরকার চেষ্টা করেছে অন্তত ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমানোর। আগামী বছরে খরচ আরও কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং হজযাত্রীদের দোয়া কামনা করেন।

এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গেই কুশল বিনিময় করেন, যাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে যোগ দেন। তিনি বলেন, সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করছে।

এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)সহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা—বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবে। উদ্বোধনী দিনের জন্য মোট ১৪টি ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়েছে; যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট আছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী প্রেরণকারী দেশে হিসেবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮,৫০০ জনের মতো হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এদের মধ্যে ৪,৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩,৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

হজ পূর্ব ফ্লাইট ২১ মে পর্যন্ত চলবে। এ জন্য মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত আছে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক বহন করবে বিমান বাংলাদেশ; বাকিরা সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস বহন করবে।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চালু থাকবে।