রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ (৩৮), পরিচিত নাম টিটন, নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে; সময়টি বিভিন্ন সূত্রে ৭টা৫০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত বলা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা সড়কে সন্ধ্যার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে টিটনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালানোর সময় লোকজনকে ভীত দেখাতে আরও কয়েকটি গুলি করে। দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরিধান করছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, বলে জানান উদ্ধারকারীর মধ্যে থাকা একজন শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিটনকে তারা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন এবং তাঁর সানজিদুল ইসলাম उরফে ইমন নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর শ্যালক ছিলেন।
নিউ মার্কেট থানা ইনচার্জ মো. আইয়ুব জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে বটতলায় একজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রচুর রক্ত লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিভিন্ন সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন বলে আমরা জানতে পেরেছি; বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বছর আগে এক আন্দোলনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং এরপর থেকে টিটন আদালতে হাজিরা দেননি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রকাশিত ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকায় টিটনের নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তার সম্পর্কিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন সানজিদুল ইসলাম ইমন; তারা মোহাম্মদপুরভিত্তিক হারিছ-জোসেফ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। টিটনের কর্মকাণ্ড প্রধানত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকা কেন্দ্রে ছিল।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডেটা সংগ্রহ করে তদন্ত আরও গভীর করছে।





