বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনব্যাপী সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২২৮টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই হামলায় লক্ষ্যবস্তুও ছিলেন সেখানে থাকা বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানী ডিপো, বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি স্বীকারোক্তি বা পূর্বের কোনো প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বড় মনে হচ্ছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবার ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ সেই সংখ্যাকে অনেক বড় অংশে বাড়িয়েছে।

কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, চলমান বিমান হামলার হুমকি কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে কর্মসংস্থান ও অপারেশন চালানোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। তাই যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই কমান্ডাররা তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ঝুঁকির বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন।

তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা সবসময়ই ‘ব্যাপক ধ্বংস’ বা ব্যর্থতার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ক্ষতির পুরো পরিসর নির্ধারণ জটিল এবং কখনো কখনো স্যাটেলাইট চিত্র ও তথ্য ভিন্ন ধারনা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করবেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানান, ইরানের সাথে দ্বন্দ্বের সরাসরি যুদ্ধ ব্যয় হবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২৫০০ কোটি) ডলার। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই যুদ্ধের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন করতে মাস কিংবা বছর লেগে যেতে পারে।

একই সময়ে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ঘটনাচক্রটি আরো বড় আকার নেয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, ফলে সংঘাত পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে; অপর দিকে ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি দুর্বল করার চেষ্টা চালায়।