সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যজনক মৃত্যু: সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি মানসিক অবসাদ?

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ২৮ মে সকালে নিজের ঘর থেকেই মগরা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বলে জানায় পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ মনে করছে এটি আত্মহত্যার সম্ভাব্য ঘটনা; তবুও সম্পর্কগত টানাপোড়েন, মানসিক অবসাদসহ সমস্ত সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছে তারা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে, জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি, বিষয়টি পুলিশের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি; তবু পরিবার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক খোঁজে জানা গেছে, ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে সায়নীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং সম্প্রতি সেই সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারীরা যাচাই করছেন যে সম্পর্কের সংকটই কি সায়নীর এই চরম সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে সায়নী কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

সায়নী কেবল একজন আইন শিক্ষার্থী ছিলেন না—তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা দৈনন্দিন জীবনভিত্তিক সরল ভিডিওগুলো দর্শকের মন জয় করত।

বিশেষভাবে তাঁর পোষ্য গরু সুন্দরীর সঙ্গে উদ্ভট মিশুকত্ব দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল; মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে সায়নী সুন্দরীকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। মোটরসাইকেল চালানো ছিল তাঁর বড় শখ—ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কিংবা আধুনিক জিনস পরে বাইকে রিল বানানোও ছিল তাঁর এক পরিচিত ধরন। এছাড়া তিনি ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি ছিল বিয়ের সাজে কনে সেজে একটি পুরনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ-সিঙ্ক করা।

পরিবার, বন্ধু ও ফলোয়ারদের মাঝে এই শোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক এবং নানা প্রশ্ন জন্মিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সকল প্রাসঙ্গিক দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত আগাবেই; ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে।