শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এগারো মাসে মোংলা বন্দরে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা গত এক বছরে ব্যবসায়িক গতিশীলতায় নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে বন্দরে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন পণ্য সফলভাবে খালাস করা হয়েছে, যা পূর্বের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন, পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য বেড়ে যাওয়ার ফলে মোংলা এখন দিনরাত ব্যস্ত। বিশেষভাবে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি ক্ষেত্রে বন্দরের কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোংলা বন্দরে ৪৫টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ নোঙর করেছে এবং এসব জাহাজ থেকে মোট ২৮ হাজার ২৪১ টিইউজ কন্টেইনার সুনিপুণভাবে হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। বন্দরে আধুনিক ইয়ার্ড ও দ্রুত পণ্য খালাসে সহায়ক যন্ত্রপাতি যোগ হওয়ার পর থেকে দেশ-বিদেশি শিপিং লাইনগুলো এই বন্দরে বেশি করে ভর করছে।

রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি এখন বন্দরের অন্যতম প্রধান আয়-উৎস। চলতি অর্থবছরে মোট ১০ হাজার ৮৮০টি রিকন্ডিশন গাড়ি নিরাপদ ও সফলভাবে খালাস করা হয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ এবং দ্রুত ডেলিভারির কারণে তারা চট্টগ্রামের বদলে মোংলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গাড়ি চুরি বা ক্ষতির ঝুঁকি কম হওয়ায় মোংলা এখন অটোমোবাইল আমদানের অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

কন্টেইনার ও গাড়ি ছাড়াও শিল্পের কাঁচামাল, সার, কয়লা, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাথর ও খাদ্যশস্যসহ নানা ধরনের কনজেনস অনুষঙ্গী কার্গোই এই বন্দরের প্রধান পণ্য। এসব পণ্যের বড় অংশ মোংলা দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য পশুর নদীর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং চালানো হয়েছে, ফলে এখন ৯ মিটার বা ততোধিক ড্রাফটের বড় বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজও সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। হিরণ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় নতুন অপারেশনাল অ্যাঙ্কর বার্থ স্থাপনের ফলে জাহাজ জট অনেকাংশেই কমেছে। এছাড়া কাস্টমস ও বন্দর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু থাকায় পণ্য খালাসের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব কালাচাঁদ সিংহ জানান, মোংলা বন্দরকে পুরোপুরি অটোমেশন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করতে বর্তমানে কয়েকটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। জেটি সম্প্রসারণ, আধুনিক কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ স্থাপন এবং রেললাইনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে মোংলা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য নয়, ভারতের কিছু অংশ, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট পণ্য পরিবহনেও দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—বন্দর কর্তৃপক্ষ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তারা আরও বলেন, দেশ-বিদেশি ব্যবসায়ীরা মোংলা ব্যবহার করলে সময় ও খরচ—উভয়ই সাশ্রয় হবে।

মোটমাটভাবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক সহজীকরণ মিলিয়ে মোংলা বন্দর চলতি অর্থবছরে রেকর্ড কর্মক্ষমতা দেখিয়েছে। এগুলো বজায় থাকলে ভবিষ্যতে দেশের বাণিজ্যে মোংলা আরও বড় ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।