শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে লক্ষাধিক টাকার সংযোজন

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় এ বছর তালের বাম্পার ফলন ধরা পড়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার ধারে, ক্ষেতের আইলে ও বসতভিটায় থাকা তালগাছে প্রচুর ফল ধরায় স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি তাল পাঠানো হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা 10,504টি। প্রতিটি গাছে গড়ে 20 থেকে 25টি কাদি এবং প্রতি কাদিতে গড়ে প্রায় 15টি করে তাল ধরে; এ হিসাব অনুযায়ী এবার উপজেলায় মোট উৎপাদন হতে পারে প্রায় 11,02,920টি তাল। মাঠ পর্যায়ে প্রত্যেক পিস তাল গড়ে 1 টাকায় বিক্রি হলে কৃষি উৎপাদন থেকে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্তি দাঁড়াবে প্রায় ১১ লক্ষ ২ হাজার ৯২০ টাকা। আর ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে তালের দাম সাধারণত প্রতি পিস 5 থেকে 10 টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তালগাছের তেমন বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না; প্রাকৃতিকভাবেই ফলন হয় এবং অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই প্রতিবছর ভালো আয় হয়। এই সহজ রক্ষণাবেক্ষণও বহু মানুষকে তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে উৎসাহিত করছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ফকিরহাটের তাল স্বাদ ও মান দিক থেকে ভালো হওয়ায় এর চাহিদা ঢাকাসহ নিকটবর্তী জেলার বাজারে প্রচুর। প্রতি দিন আদা ঝুলানো ট্রাক কয়েক দফায় তালের পাঠান করেন—এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস বলেছে, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছরে প্রায় ১,৫০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০টি চারাও রোপণ করা হয়েছিল।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “তাল একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মানুষের খাদ্যতন্ত্রের জন্য উপকারী। পাশাপাশি তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষণে ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে গুরুত্ব দেয়া উচিত।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার বোধগম্য উন্নয়ন হলে তালকে একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। সেক্ষেত্রে ফকিরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতি আরও বড় আকারে উপকৃত হবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।