শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি: কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় twoজনকে গ্রেপ্তার করেছে; তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার দুজনের একজন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং অপরজন ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম (৩২)।

সরকারি কোরবানির ছুটি ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে সাত দিন চলার পর গত সপ্তাহের একদিন সচিবালয় খুললে কর্তৃপক্ষ দেখেন প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন। বিষয়টি জানালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। বিটিসিএলের একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, রেড টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার এই মামলায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত স্থাপন করা কপার কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের রেড টেলিফোন ও অন্যান্য সংযোগ সচল রাখা হতো। দুর্বৃত্তরা ছাদ থেকে ওই কপার কেবল কেটে নেওয়ায় এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের যৌথ তদন্তে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে দুপুরে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন স্বীকার করেন যে, ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে সে তামার তার কেটে নিয়েছিলেন। পরে ১ জুন তিনি ওই তামার তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে থাকা এক ভাঙারি দোকানে কেজি প্রতি ৬০০ টাকায় মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম বিক্রি করেন।

রঞ্জনের তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হল সংলগ্ন এলাকা থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেজাউল দেখান অনুযায়ী চকবাজারের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। পুলিশের mukaan চক্রের উৎস ও হোতাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।