শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পদত্যাগের দু’দিন পর ফেসবুকে দীপেন দেওয়ানের শান্তি আহ্বান ও দলের প্রতি অঙ্গীকার

পার্বত্যচট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে অসুস্থতা তুলে করে গত ১ জুন পদত্যাগের পর থেকে তাঁর সমর্থকরা বিভিন্ন মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন। পদত্যাগের কয়েক দফা প্রচারণা ও আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই দুই দিন পর বুধবার (৩ জুন) রাতে ফেসবুকে বড় এক বার্তা দেন দীপেন দেওয়ান—পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান ও রাজনৈতিক আনুগত্যের পুনর্ব্যক্তি।

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, পদত্যাগের পর রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা তাঁকে আপাতত চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই নীরবতায় নানা জল্পনা-অপজল্পনা তৈরি হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি নিজের বক্তব্য দেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সব স্তরের মানুষদের উদ্দেশ্যে স্বাগত জানিয়ে—আদব ও স্থানীয় ভাষার শুভেচ্ছাসহ—শান্তি ও ধৈর্যের আহ্বান জানান।

দীপেন দেওয়ান পোস্টে বিশেষ করে বলেন, পার্বত্যচট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জনগণ যেন আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখেন; উসকানিকর ভাষা ও সংঘাতের পথে না হেঁটেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বজায় রাখুন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্যচট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার।’’

তিনি আরোপ করেন না যে ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড়—এমন অবস্থান থেকে তিনি পার্বত্য এলাকার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক আস্থা দৃঢ় করার আহ্বান জানান। পোস্টে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও দায়িত্ববোধের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি তাঁর রাজনৈতিক ঠিকানা এবং জীবনের বাকি সময়ও দলের আদর্শ ও জনগণের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

দীপেন দেওয়ান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূত্র হিসাবে বাবার কথা স্মরণ করেছেন—জিয়াউর রহমান সরকারের সময় তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন—এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনাকে নিজের রাজনৈতিক পথপ্রদর্শক বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের বর্তমান নেতৃত্ব—তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের কাজে নেতৃত্ব অনুসরণের ইচ্ছাও জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টের শেষে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানান এবং শ্রদ্ধা জানান। পক্ষান্তরে, তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও বর্তমানে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

সংক্ষিপ্ত জীবনীতে বলা হয়েছে, দীপেন দেওয়ান ১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙামাটির রাঙাপানি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা। দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি (আসন নং-২৯৯) থেকে ২০১,৮৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

মন্ত্রীর এই ফেসবুক বার্তা পার্বত্য এলাকার স্থিতিশীলতা রক্ষায় শান্তি ও সংহতির আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, আর রাজনৈতিক মহলে তা ভবিষ্যৎ ঘটনাক্রমে কী প্রতিফলন হবে তা নজরদারির অপেক্ষায় রয়েছে।