শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফন ফের পেছানো হলো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আবারও স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগে ইরানি সরকার মহররম মাসের প্রথম দশকের মধ্যে—ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসে—মধ্য জুনে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু মেয়র জাকানির কথায়, ইরানিদের ইমাম হোসেন (রা.)-এর স্মরণে পবিত্র আশূরার ধর্মীয় রীতি যথাযথভাবে পালনের সুযোগ দিতে ওই শোক অনুষ্ঠানটি প্রথম দশকের পর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন মহররমের দ্বিতীয় দশক, অর্থাৎ ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি সময়ে খামেনির শোক অনুষ্ঠান এবং জানাজা-দাফনের আয়োজন করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সঠিক তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলে চালানো এক হামলায় প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের আরও অনেকে নিহত হন এবং তার উত্তরসূরী পুত্র মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছেন।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা কয়েকবার পিছিয়ে গেছে। এপ্রিল মাসে স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও তা পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, একটি গ্রহণযোগ্য ও ঝকঝকে শোকসভা আয়োজনের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষের আশা, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটির মতো মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন।

অন্যদিকে আগে ঘোষিত হিসেবে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে লোকজন সর্বোচ্চ নেতার মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। তার পর মরদেহ জন্মভূমি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে সমাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে—সেখানে ইমাম রেজার মাজার এবং তার বাবার কবরও অবস্থিত।

এই খবরের উৎস: আল-আরাবিয়া।