অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি পুরো দেশের সব নাগরিকের কল্যাণকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেট জাতির সার্বিক প্রয়োজনে তৈরি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা পার্টি নিরপেক্ষভাবেই কাজ করবে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট করি না এবং ভবিষ্যতেও করব না। আর্থিক সুবিধা ও অনুদান দেওয়া হবে প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায়; কারও পক্ষে পক্ষপাত করা হবে না।’’
মন্ত্রী জানান, বাজেটে কৃষক, শ্রমজীবী, নারী, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে গ্রামীণ কারিগর পর্যন্ত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশের এমন কোনো নাগরিক নেই যিনি এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকবেন।’’
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইলট পর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। ‘‘এই তালিকায় কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে তালিকা তৈরি করেছেন এবং সেই অনুযায়ী সুবিধা দেওয়া হয়েছে,’’ মন্ত্রী জানান।
আসন্ন অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে—এটিও মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই এই সহায়তা পান। বাছাই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে কাজ চলছে।’’
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং নাগরিক সুবিধা প্রদানে রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে যোগ্যতা ও প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি বললেন, ‘‘দেশটা সবার; তাই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাও সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।’’





