রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় জিসান মিয়াকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তের সংবাদটি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন।

ফরহাদ জানান, গত রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে শনিবার দুপুর গত দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি বা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এখনও তিনি পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন, তাই নিখোঁজ সংক্রান্ত বা ঘটনার অন্য বিবরণ জানতে তাদের থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনার বিষয়ে একমাত্র সোর্স হিসেবে পুলিশের দেয়া তথ্যই তাদের কাছে রয়েছে।

জানানো হয়েছে, ঘটনার অভিযুক্ত বিধবা নারী লিজা আক্তারের বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানিয়েছে, গতকাল বিকালে তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক লিজাকে নিয়ে গেছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবা এখনও পুলিশের হেফাজতে আলাদা রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

সাবিকুন্নাহার বলেন, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে থানায় নেয়ার প্রক্রিয়া ও মামলা দাখিল পর্যন্ত কোনোকিছুই পরিবার বিস্তারিত জানতে পারেনি; তারা লিজা ও তার বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে তিনি আগে থেকেই জানতেন যে জিসান ও লিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা সম্পূর্ণ বাস্তবতা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুসারে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, যদি কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ ছিলেন বলে পরদিন তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো এবং ওই নারী সালিশ বা বিয়ের দাবিতে চাপ দিলে জিসান নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন—এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিসানের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিভিন্ন তথ্যই এখন পুলিশের জিম্মায় থাকায় তদন্তাধীন রহস্য দ্রুত পরিস্কার হওয়া সম্ভব হয় না। ছাত্রশিবির বলে দিয়েছে, তদন্তে যদি সংগঠনগত বা আইনি লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এবং ভুক্তভোগীকে সমস্ত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।