শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ এমওইউতে স্বাক্ষর করেছেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপে ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭ সম্মেলন উপলক্ষে ফ্রান্সে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল বুধবার প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজের আগে ট্রাম্প ওই এমওইউতে সেলামি স্বাক্ষর করেন; অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে ছিলেন।

এর কিছু সময়ের মধ্যেই তেহরানে নিজের দপ্তরে একই চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।

চুক্তিটি ১৪টি পয়েন্ট ছাড়াই সংক্ষিপ্ত — মাত্র প্রায় ৮০০ শব্দের একটি সমঝোতা। তবু এর তাৎপর্য দুর্বল নয়; এটি বহু দশক ধরে চলা দুই দেশের উত্তেজনা শান্ত করার প্রাথমিক সংকেত এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পটভূমি: ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা উত্তেজনার পর টানা ৪০ দিন সংঘাতের সৃষ্টি হয়, তারপর এক মাসের বেশি সময় অনড় অবস্থা চলার পরে মার্কিন প্রশাসন গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে শান্তিচুক্তির খসড়া পাঠায়। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “আমরা ইরানের কাছে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছি; আশা করছি শিগগিরই মীমাংসায় পৌঁছাতে পারব।”

ইসলামাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা, শর্তসমূহ নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুপক্ষকে আলোচনা চালানোর জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ওই সময়সীমায় ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে অবাধে চলাচল করতে দেবে; বিনিময়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত অবরোধ gradually তুলে নেবে—এমন শর্ত চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

পাকিস্তান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, স্বাক্ষরের পরই চুক্তির শর্তাবলীর বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন