শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছত্তিশগড়ে বালুবিবাদে বিজেপি নেতাসহ তিনজন জ্যান্ত পুড়ে নিহত

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিজেপির এক নেতা এবং আরও দু’জন জ্যান্ত পুড়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বজনেরা ও পুলিশ সূত্রে শুক্রবার জানানো হয়েছে, বালু মাফিয়া ও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘদিনের বিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক ট্রাকের মাঝে একটি ফরচুনার এসইউভি আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানো হয়। গাড়ির ভেতরেই বিজেপি নেতা ভারত সিং (ওরফে লাল্লা সিং) এবং আরও দু’জন — বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং — জ্যান্ত পুড়ে মারা যান।

এক আরোহী মায়াঙ্ক সিং গুরুতর আহত হয়ে বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তিরত; তাঁর মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন দাবি করেছেন, ভারত সিং বালু মহাল সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদে পড়ে যান। পুলিশ বলছে, ফরচুনার গাড়িটি চারদিক থেকে ঘেরাও করে গাড়ির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করানো হলে পালানোর আর কোনো রাস্তা ছিল না। তারপরই গাড়িতে আগুন ধরানো হয়।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে — অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে; হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলেছে, ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ছিল ভারত সিংয়ের পরিবারের কাছে। সোনহাত, কৈলাশপুর, তেলিমুদা, বেলিয়া ও ছিংগুরায় বালু পরিবহন ও খনি সংক্রান্ত অবৈধ চাঁদা আদায় নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। ত্রিপাঠী পরিবারের বেশ কয়েকটি ট্রাক বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো এবং নিয়ন্ত্রণ ও টাকার ভাগাভাগিতে বিবাদ আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল।

স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে ঘটনাকে কোরিয়া জেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেছেন এবং পরিস্থিতি কীভাবে এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছল তা তদন্ত করে বলা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন। সাবেক বিধায়দ গুলাব কামরো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই জানিয়েছন, ঘটনার নজরে আনা হয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; তদন্ত চলছে।

ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে এনডিটিভির রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরবর্তী তথ্যগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।