শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোপন গোয়েন্দা নথিতে দাবি: ফাউসি উহান ল্যাব তহবিল করেছেন, ল্যাব-লিক থেকেই করোনা ছড়িয়েছে

মার্কিন গোয়েন্দা নথি ও প্রকাশিত ই-মেইলের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে, করোনাভাইরাসের উত্স নিয়ে সরকারি তথ্য ও বিশ্লেষণ আড়াল করার চেষ্টা করেছেন ড. অ্যান্থনি ফাউসি—এবং নথিগুলোতে বোঝানো হয়েছে যে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে তহবিল গিয়ে পৌঁছিয়েছিল। এই দাবি সর্বসাধারণের সামনে নিয়ে এসেছে প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড, যিনি কিছু ডিক্লাসিফায়েড নথি ও অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করেছেন।

নথি ও ই-মেইলের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে করোনাকালীন সময়ে ড. ফাউসি জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে ‘ল্যাব-লিক’ তত্ত্বটি অগ্রাহ্য বা দমন করার চেষ্টা করেছেন এবং আমেরিকান তহবিলের মাধ্যমে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার অর্থায়ন চালু রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রকাশিত কাগজপত্রে এনআইএআইডি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস)‑র নামে উহান ইনস্টিটিউটকে গেইন‑অফ‑ফাংশন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন প্রদানের কথা উল্লেখ আছে—যেটি নথিতে ‘ল্যাব-ভিত্তিক ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, মহামারির সময় ফাউসি তিনটি প্রধান পথে কাজ করেছিলেন যাতে তাঁর বিতর্কিত গবেষণা ও অর্থায়ন আড়াল করা যায়:

1) তহবিল সচল রাখা: টিকার বৈশ্বিক বিপণনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার পথ সুগম করা।

2) গোয়েন্দাদের প্রভাবিত করা: নিজের পছন্দের বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণকে প্রাকৃতিক উৎপত্তির দিকে টেনে আনানো।

3) তথ্য নিয়ন্ত্রণ: জনসম্মুখে মহামারির মুখ হিসেবে দাঁড়িয়ে ল্যাব-লিক তত্ত্ব সমর্থক বিজ্ঞানীদের কণ্ঠরোধ বা সীমাবদ্ধ করা।

এই অভিযোগগুলো ড. ফাউসির কংগ্রেসে দেয়া শপথবদ্ধ জবানবন্দির সরাসরি বিপরীত বলে নথিপত্রে লেখা—শপথে তিনি দাবি করেছিলেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভাইরাস উৎস নিয়ে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু প্রকাশকৃত ই-মেইল ও নথি ওই দাবির বিরুদ্ধে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ দেখায় বলে দাবি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা অফিসিয়ালদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ল্যাব থেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মহামারি বিস্তার পেয়েছে এবং এতে লক্ষ লক্ষ প্রাণহানি হয়েছে—এমনটি নথিতে উল্লেখ আছে। একইসঙ্গে ডিক্লাসিফায়েড প্রক্রিয়ায় কিছু হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা জানান যে ল্যাব-লিক তত্ত্বকে সমর্থনকারী বিশ্লেষকরা গোয়েন্দা দফতরে ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক চাপের সম্মুখীন হয়েছেন; কেউ কেউ পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত বা চাকরিচ্যুত করার মতো সমস্যায় পড়েছেন।

তুলসী গ্যাবার্ড এসব নথি স্বাধীন তদন্তের জন্য গোয়েন্দা দফতরের মহাপরিদর্শক (আইজি)‑র কাছে পাঠিয়েছেন বলে বলা হয়েছে। গ্যাবার্ড বলেন, বছরের পর বছর ধরে জনগণ মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও তথ্য লুকোনোয়ের শিকার হয়েছে এবং অনির্বাচিত অথবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তারা সত্য লুকাতে গোয়েন্দা তথ্য ম্যানিপুলেট করেছেন।

গবেষণাগারের তহবিল ও গেইন‑অফ‑ফাংশন পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু; বিশ্বের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বিভিন্ন দেশের বহুসংখ্যক জৈবগবেষণাগারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। করোনা উত্স নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও ধারাবাহিক বিতর্ক রয়েছে—এবার প্রকাশিত নথি তা আরও তীব্র করতে পারে এবং ড. ফাউসি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, এই রিপোর্টগুলো এখনই শুধুমাত্র দাবি ও নথি-ভিত্তিক; তাদের স্বতন্ত্রভাবে যাচাই, আদালত বা স্বাধীন অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ করার প্রয়োজন আছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা সময়ের সঙ্গে 밝혢বে।