শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল; আজ থেকেই কার্যকর

রয়টার্স জানায়, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে শুক্রবার (১৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, লেবাননের স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ওই সময় থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, দিনের শুরুতে দু’পক্ষের মধ্যে কিছু সময় সংঘর্ষ হয়েছিল; পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার মধ্যস্থতায়—ইরানের সমর্থন থাকায়—এই সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। (নাম প্রকাশের অনুরোধে সূত্রটি গোপন রাখা হয়েছে)।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর ও রাতভর ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালায়। এ হামলায় দেশটিতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে; একেই তারা লড়াইয়ের সবচেয়ে ভারী হামলার মধ্যে একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সময় সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনাও নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ইসরায়েলের এই হামলার পর সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার অ্যারেঞ্জ করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার একটি রাউন্ড। তবে হামলার প্রেক্ষাপটে ওই আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে বলে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকের প্রস্তুতি এখনও অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি বলেছে, ওই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এক memorandumb-এর বাস্তবায়ন ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুতে আলোচনা শুরু করা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী, ইরানকে পুনর্গঠন তহবিল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ মোট ১৪ দফা বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল।

হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন আইনপ্রণেতা বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য না করলেও তিনি অভিযোগ করেছেন যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী এবং তেহরান তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিকার নেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সহিংসতা বন্ধসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শর্ত ছিল ওই সমঝোতার মূল কারণগুলোর একটি। তবে সমঝোতার পরও লেবাননে হতাহতের ঘটনা দেখা দেয়, যা পরিস্থিতির নাজুকতাই প্রতিফলিত করে।

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এই অস্থিরতা নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সুত্ররা বলছে, যদি উত্তেজনা বাড়ে বা যুদ্ধবিরতি অক্ষুন্ন না থাকে, তাতে আন্তর্জাতিক শিপিং-লাইন ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

সংক্ষেপে: মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আজ (১৯ জুন) লেবানন সময় বিকাল ৪টা থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পর্যায়ক্রমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে; একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে নেয়াজানা আলোচনার রুটিন স্থগিত রয়েছে; এবং গত ইসরায়েলি হামলায় মৃত ও আহতের সংখ্যা ঘটনার তীব্রতা নির্দেশ করছে।