শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় জামায়াত আমিরের আহ্বান: বিএনপি জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে বিএনপিকে ভুল সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুল থেকে ফিরে জনগণের কাতারে আসুন এবং জনরায়কে সম্মান করুন। দফায় দফায় সতর্ক করার পরেও যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়, তাহলে শেখার সুযোগ জীবনেও কম থাকবে না—এমনটা তাঁর বক্তব্যে ছিল।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারের তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যকে মাথা নত করানোর জন্য নয়। বরং এটা হবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য।’’

তিনি আবারও যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান—শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত এক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

বক্তব্যে শফিকুর বলেন, খুলনাবাসী যে রায় দিয়েছিলেন, সেটাই তাদের কাছে চেয়েছিলেন। সে রায় সংসদে বাস্তবায়ন হবে—এটাই তাদের দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’’ তবে সংসদে থেকে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন; প্রয়োজনে কঠোর উপায়েও সমাধান হবে—এই নেতার ভাষায়, ‘‘সিংহের মতো লড়াই করে যাব। সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়েই ঢুকাতে হবে।’’

এমন সংসদীয় সিদ্ধান্ত যদি না আসে, তবে যেখানে স্পীকারের অনুমোদন লাগবে না—প্রতিটি জনমঞ্চেই আন্দোলন চলবে বলে শফিকুর জানান। তিনি বলেন খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ সারাদেশের মাঠ থেকে এক আগ্নেয়গিরির জন্ম হবে, যা পুরোনো অব্যবস্থার সব আবর্জনা পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।

শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তারা শত কষ্টে সহিংসতা এড়ানোর জন্য আপোষ করেছে, যেন দেশে গৃহযুদ্ধ না হয়। তবু অন্যায় ও আধিপত্যের কাছে মাথা নত করা হবে না। তিনি নেতাদের সংগ্রামী মনোবল স্মরণ করে বলেন, প্রয়োজনে জাতির জন্য তাদের নেতারা যে ত্যাগ ও দৃঢ়তার উদাহরণ রেখেছেন, ভবিষ্যতে এমনই মুঠোফোনী প্রস্তুত থাকা লাগবে। ‘‘খানজাহান আলী, শাহাজালালের বাংলাদেশে জনগণও সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত,’’ তিনি বলেন।

সরকারকে তিনি সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যদি আমরা বা দেশবাসী দেখি যে আপনারা আধিপত্যের সামনে মাথা নত করছেন, আমরা তা সহজে ছেড়ে দেব না। সাবধান—২০ কোটি মানুষের ২৪ কোটি হাত আজ প্রস্তুত।’’

এ ছাড়া সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়েও শফিকুর আক্রমণাত্মক চিন্তা প্রতিপন্ন করেন। তিনি বলেন, ‘‘পুশইনের নামে কেউ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাইছে। যখন বিজিবি সীমান্তে দাড়িয়েছে, তখন তারা জনগণের ডান হাত হিসেবে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না প্রতিবেশীর শান্তি বিঘ্নিত হোক, আর কেউ যদি আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, তাহলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা তার প্রতিক্রিয়া দেব।’’

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।