শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেখ মুজিবও একদলীয় শাসন করেছিলেন, টিকে যেতে পারেননি: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত মহানগর কর্মী সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার পদে-পদে একদলীয় শাসনের রূপরেখা কায়েম করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘‘কালো হাত’’ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ—এসব কর্মকাণ্ড একদলীয় শাসনের লক্ষণ বলে তাঁর দাবি।

মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জেলার ও কেন্দ্রের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘শেখ মুজিবও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু টিকে যেতে পারেননি।’’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসকরা জেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় নেতা ও ক্যাডার বসিয়ে একই রকম ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাই পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচন কার্যকর করেছে; তিনি শহীদদের ত্যাগ ছোট করে দেখার অনুরোধ করেছেন। বিগত নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর ১১ দলীয় জোটকে একটি আসন দেয়া সম্ভব হয়েছিল—যদি ভোট গণনা সুষ্ঠু হতো, ভোটের ফলও ভিন্ন হতে পারত বলে তিনি আঙ্গিক জানান।

ডা. শফিকুর সাফ জানান, সরকারের আগেও পরে ও বর্তমান সময়েও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষের সমস্যা বাড়ছে; প্রশাসনিক অনিয়ম ও পক্ষপাতিতা মানুষের ভাগ্য বদলের বদলে শুধু কিছু গোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে। ‘‘মানুষের ভাগ্য বদলাচ্ছে না, কিছু গোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে যাচ্ছে—এটাই সত্যি,’’ তিনি বলেন।

তিনি দলের নেতা তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৭ শতাংশ লোক অংশ নিয়েছিল এবং ভোট যাতে হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে হ্যাঁভোট চাওয়া হয়েছিল—এ ধরনের ঘটনা রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষীণ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জের নগরী হিসেবে গৌরব হারানোর বিষয়টিও তুলে ধরে জামায়াত আমির বললেন, ‘‘একসময় নারায়ণগঞ্জ প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সন্ত্রাস ও নানান গডফাদারের কারণে গৌরব হারিয়েছে। ত্বকী নামে একজনের হত্যার বিচার হয়নি—এগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’’ তিনি নতুন কোনো গডফাদার এখানে গড়ে উঠতে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর আরও বলেন, লোকজন ভয়ের কারণে কথা বলছেন না; ব্যবসায়ী জনতার মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তিনি অনুরোধ করেন, অনির্বাচিত প্রশাসকরা সরিয়ে দ্রুতভাবে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হোক, যাতে জনগণের অধিকার ফিরে পায়।

সম্মেলনে জামায়াতের আমির সরাসরি ঘোষণা করেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এখান থেকে প্রার্থী দাঁড় করাবে। তিনি মহানগর নেতাকে এ জেলার মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জানান, ২৭টি ওয়ার্ডে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম প্রার্থী প্রতিটি ওয়ার্ডে দেয়া হবে।