লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিন জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গুরুতর জখম এক কিশোরী ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন নিহত হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেই রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায়। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুনুর রশিদ পলাশ জানান, ১৭ বছর বয়সী ইকরা উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢামেক (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নেওয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় মারা যান।
নিহতদের পরিচয় জানা গেছে — মা শাহীনুর বেগম (৩৫) ও তাদের তিন মেয়ে ছায়মা (২১), ইকরা (১৭), সিফা (১৩)। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর মজুমদারও রয়েছেন। অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, শাহীনুর বেগম ও তার সন্তানরা রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহীনুরের স্বামী, ব্যবসায়ী কামাল হোসেন মারা গিয়েছিলেন।
ওই পরিবারের সঙ্গে অন্তরের পূর্বপরিচয় ছিল—পুলিশ বা স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে তিনি ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন এবং প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেছিলেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ শাহীনুর ও তার দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ১৬ বছর বয়সী সিফাত; সিফাত সকালেই পাশের একটি দোকানে কাজ করতে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এসপি আবু তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, তবে হত্যার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি; রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরো বলেছে, তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা ঘটনাটি নিয়ে শক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।





