বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভেনেজুয়েলা: ভূমিকম্পে মৃত ১,৭১৯ — উদ্ধার কার্যক্রম যেন ভাগ্যের ওপর নির্ভর

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে পরপর δύο শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার কাজ থমকে নেই, তবু অনেক এলাকায় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজের বড় অংশ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করছে—ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধার হওয়া আরও অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্রটি মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিবিসি বলেছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরশহর লা গুয়াইরায় বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল হাতে রেখেই খন্দি কাটছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। সোমরাতে এক পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়লেও এতে নতুন কোনো বৃহৎ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের “সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ” আখ্যা দিয়েছেন। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তা আসলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। তবু ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর সোমবার ভোরে ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে সামান্য আশার ঝলক সৃষ্টি করেছে।

বিবিসির তথ্যমতে, উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে; এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এর পরেই রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪.৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।

রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনা দেখা গেলেও উদ্ধারে তাদের অংশগ্রহণ কম দেখা যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোরের স্থানীয়রা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা খুবই কম; মূল দায়িত্ব এখন গ্রামের কৃষক ও পাশের প্রতিবেশীদের কাঁধেই পড়েছে। তারা নিজস্ব ուժে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্ৰী জোগান দিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের সহযোগিতা করছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এখন প্রায় ২৫ হাজার জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনা সদস্য ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছেন এবং প্রতিটি জীবন রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে; সেই নিরিখেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও স্থাপন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃষ্টিকোণও মৃদু উদ্বেগ জাগাচ্ছে। জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত—এগুলোর বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মোট ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে এবং মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত সম্পূর্ণ সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং জীবিতদের উদ্ধারে তৎপরতা বাড়াতে এখন সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় মানুষের হাতে আশা ও সাহস থাকলেও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় ও দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন, নতুবা আরও জীবনহানি সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি