বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পেট্রোলের দাম অবিলম্বে কমাতে বিক্রেতাদের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেট্রোল বিক্রেতাদের প্রতি অবিলম্বে দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং না মানলে ‘‘বড় ধরনের সমস্যা’’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ কথা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে বলেন—আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের পোস্টে বলা হয়েছে, পেট্রোল বিক্রেতারা কোনো অজুহাত ছাড়াই দাম কমাতে বাধ্য। তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন যে খুচরা বিক্রেতারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং প্রতি গ্যালনের মূল্য প্রায় ২.৫০ ডলারে নামানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু করবে।

তিনি আরও বলেছেন, যারা এই আহ্বান মানবে না তাদের ‘‘বড় ধরনের সমস্যা’’ ভোগ করতে হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বিচার বিভাগকে (ডিওজে) দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলার কথাও জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে টার্গেট করে লিখেছেন, সেখানে পণ্যের মূল্যের পাশাপাশি করও এমনভাবে বেড়ে যাচ্ছে যে সেটি অনুপযুক্ত—এমন কর রাজ্যবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্র মোটেই মেনে নেবে না। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে সমালোচনা করেছেন, যিনি ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা ও ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক। নিউসম কৌশলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সম্পর্কিত সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর গ্লোবাল বাজারে তেলের দাম বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশে জ্বালানি উত্পাদন বাড়াতে জোর দিচ্ছে। ২০১৫ সালের এক বড় তেল দূর্ঘটনার পর বন্ধ করা হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পাইপলাইন; সেটি পুনরায় চালুর জন্য প্রশাসন জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, বড় তেল কোম্পানিগুলো কম দামে তেল কিনলেও পাম্পে ওই অনুপাতে দাম কমাচ্ছে না এবং ফলে গ্রাহক ঠকছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘দাম দ্রুত কমছে; অন্য কথায়, গ্রাহকদের ঠকানো হচ্ছে,’’ এবং এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের মতে, কোনো সংঘাত শেষ হলেই দাম তৎক্ষণাৎ অনেকটা কমে আসবে—এমন সরল সমাধান নাও থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।

ট্রাম্পের এই নির্দেশ এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ এবং তার প্রভাবের বিষয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন, এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। সূত্র: আল জাজিরা।