রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খামেনির জানাজায় তিন ছেলে উপস্থিত; মোজতবা অনুপস্থিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার পর আজ রোববার আয়োজিত জানাজায় তিন ছেলে হাজির ছিলেন — মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি। তবে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলেছে যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনিকে জানাজায় দেখা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ জানাজার নামাজ আদায় করছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে এক সপ্তাহব্যাপী গণ-শোকসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং শোকের অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ পরবর্তীকালে প্রতিবেশী ইরাকে শিয়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতেও নিয়ে যাওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় ঘোষণার আগে খামেনির মরদেহ এক দিন ভবনের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং শনিবার কাচে আবৃত অবস্থায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে কফিনটি প্রদর্শন করা হয়। তাঁর কফিনের পাশে पत्नी, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনও রাখা হয়েছিল।

রয়টার্সের সূত্রে বলা হয়েছে, মোজতবাকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ও তাঁর কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে হামলায় তাঁর মুখ বিকৃত ও এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লেগে থাকতে পারে; তবে এই তথ্য সাম্প্রতিক অফিসিয়ালভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বার্তা অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার ফলে চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ এখন যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সমঝোতা দেশটির জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে এবং তা একটি বড় বিজয়ের প্রতিফলন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে হওয়া কর্মসূচির কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য বিলম্বিত হয়েছে।

আজ জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। জানাজার সময় মাসউদের কফিয়েহ পরে কাঁদতে দেখা গেছে; কফিয়েহটি ইরানে বিপ্লবী সংগ্রাম ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

হাজার-হাজার মানুষ জানাজায় সমবেত হয়ে আবেগপ্রবণ দৃশ্য সৃষ্টি করেছে; কেউ কেউ বুক ধড়ফড় করছে, কেউ কাঁদছেন, অনেকে রাতভর সেখানে অবস্থান করেছেন। ইরানের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায় শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে — রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে মানুষের স্রোত এই সংখ্যা বৃদ্ধির এক কারণ।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল শোকযাত্রা হবে; এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় আনুষ্ঠান্যতার জন্য মরদেহ কুম শহরে নেওয়া হবে, যা ইরানের শিয়া নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র। সেখান থেকে মরদেহ নাজাফ ও কারবালায় পাঠিয়ে ধর্মীয় রীতিতে জানাজা করা হবে এবং পরে ইরানে ফিরিয়ে মাশহাদে আরেকটি শোকযাত্রার পর ঐতিহাসিক শিয়া ইমামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎ শোকযাত্রাগুলোতে কোটি মানুষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরিবহন, খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মকর্তারা বলছে যে এই কর্মসূচি সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতি জনসমর্থন ও ইসলামি বিপ্লবের চেতনা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়েই আয়োজিত।