রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত প্রায় ৩ হাজার, নিখোঁজ প্রায় অর্ধলাখ

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে এবং এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে আছেন। কর্তৃপক্ষের বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো অনুসারে উদ্ধারকাজ জোরালো তবু জটিল অবস্থা বজায় আছে।

ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত করা সেই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৯৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত রোগীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৬,৫৯২ জন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধারকার্যরত দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬,৪৬২ জনকে ছিঁড়ে-পাড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করতে সক্ষম হয়েছে। ভূমিকম্পে মোট ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

দূর্ঘটগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ৩,২৮১ জন উদ্ধারকর্মী যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রাণ, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তায় মোট ২৯,৫৬৭ জন কর্মী নিয়োজিত আছে, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলমান উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা করার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারদল মোতায়েন করা হয়েছে।

রয়টার্সের উদ্ধৃত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভূমিকম্পের ফলে সর্বনিম্ন ১৬,০০০-এরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে; এর মধ্যে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবু শিবিরে আছেন। বেসরকারি সূত্র বলছে, এখনো প্রায় অর্ধলাখ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের অনেকে ধ্বংসস্তূপের তলায় বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে হতে পারে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ২৪ জুন একই এলাকায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে শহরে দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প লেগে ছিল—মানাংক যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫। এখন পর্যন্ত ৯৪২টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

উপকূলীয় ও উচ্চঘনত্বের অঞ্চলে অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও সঠিক তথ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও উদ্ধারকর্মীরা আবারও আফটারশকের ভয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এখন চিকিৎসা, খাবার, পানীয় জল ও সাময়িক আশ্রয়ের ত্বরিত ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রতিটি পোস্টে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, তবে জরুরি অবকাঠামো পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অনেক এলাকায় সহজে প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না।

এই তথ্যগুলো আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স ও ইউএসজিএসের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সংগৃহীত। উদ্ধারকাজ ও পুনর্বাসন চলমান আছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন আপডেট আসছে।