রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত আমির: ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছি, সময় হলেই প্রকাশ করব

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন এবং সময় হলেই তা প্রকাশ করবেন। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও বিশ্বে অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা আছে। আমাদেরও রয়েছে—সময়সূচি মিললে আমরা তা প্রকাশ করে দেব।’’

তিনি সংসদকে ‘‘গান-বাজনার সংসদ’’ হিসেবে না দেখে দায়িত্বশীল সংসদ হিসেবে দেখতে চান। জনগণের সমস্যাকে কেন্দ্র করেই আলোচ্য হওয়া উচিত, বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্থিতিশীল সংসদ চাই। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের লক্ষ্য।’’

সরকার গণভোট না মানায় জাতীয় জীবনে সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘গণভোট আমরা চেয়েছি, বিএনপিও চেয়েছে। আমরা নিয়ম মেনে সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছি, অথচ বিএনপি তা নেয়নি বলে দোষ দিয়েছে। এমনকি সংবিধানে না থাকা সত্ত্বেও পূর্বে ড. ইউনূস সরকারের উদাহরণ আছে—তবু বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে।’’

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছে, কিন্তু বিএনপি তাদের ভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। বিষয়টি সংসদেও তোলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বর্তমান সংসদের কার্যক্রমে বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া হচ্ছে—এমনও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

জুলাইয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হওয়া সত্ত্বেও সংসদে বিরোধী দলই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবু, জনগণকে দেওয়া ওয়াদা থেকে জামায়াত সরে যায়নি—রাজপথেও তারা অনড় রয়েছেন, জানান তিনি। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে সরকারি দল জনরায়ের মর্ম বুঝবে।

সংখাগরিষ্ঠতা ভোগ করায় সরকারি দল বেশ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করেছে—বিরোধীরা মনে করে জনগণ সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে, সংশোধনের নয়, বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং তিনি আশা করেন যে এগুলো দেশের সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে; তা না হলে দেশ বিপদের মুখে পড়বে।

বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত একটি ছায়া বাজেট পেশ করেছিল—প্রস্তাবিত বাজেটের অনেকে সেই ধরনেই হয়েছে। বিশেষ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ বিরোধীর কিছু আপত্তি সরকার খেয়াল করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা অর্থবর্ষ জেনুয়ারি-ডিসেম্বর ধরে বাজেট প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু এ বিষয়ে সমাধান পাননি।

সরকার বাজেটকে ‘‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’’ বলে দাবি করলেও বাস্তবায়ন ক্ষমতা ও দুর্নীতি রোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলেছিলেন তিনি। দুর্নীতি বন্ধ না হলে আবারও বৈদেশিকভাবে অর্থ পাচারে সমস্যা হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।

ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান জামায়াত সংসদ সদস্যদের সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, আমরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট নেব না—এই সিদ্ধান্ত ন্যায্য বলে ঘোষণা করেছি। তবে ফ্ল্যাট পুরোপুরি স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় না; এমপিদের সাময়িক বসবাসের জন্য এটি বরাদ্দ থাকে—ফ্ল্যাট না নেবো বলিনি, এই তফসিল তিনি দিয়েছেন।

পরিশেষে তিনি স্মরণ করান, জাতীয় স্বার্থে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনে জামায়াত বিএনপিকে সহযোগিতা করেছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে কোনো সক্রিয় তৎপরতা করছেন না।