সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সমাজ বদলাতে সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব জরুরি: জামায়াতের আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে তিনদিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এই শিবির শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দেশের সামাজিক ও নৈতিক সংস্কারে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গঠনের উপর জোর দেন। বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতাকে নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিবিরের বিভিন্ন সেশনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় ধারাবাহিক আলোচনা হয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা শিবিরে বক্তব্য ও আলোচনা উপস্থাপন করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশে মুসলমানরা নানা ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জামায়াতে ইসলামী গত ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের সাক্ষী ছিল। তিনি যোগ করেন যে, যারা আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের অবদান ন্যায়সঙ্গতভাবে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে।

তিনি নেতাকর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা, আল্লাহকে স্মরণে একনিষ্ঠতা ও ইখলাসের তাগিদ দেন এবং বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান যে দীর্ঘদিনের সুনামও একটি ছোট ভুলে ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের বর্তমান সঙ্কটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, জীবন ও সম্মানের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলিমরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জামায়াতের সামনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, মুসলিম সমাজ সার্বজনীন হওয়া সত্ত্বেও অনেকসময় সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন এবং জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা থেকেই দলটির প্রতি আস্থা রেখেছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সকলকে তাদের ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতা দমন করার আহ্বান জানান।

তিনি কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, এতে মানুষ পথভ্রষ্ট হয় না। পরিবার, সংগঠন ও সমাজ শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নারীদের সম্মান নিশ্চিতকরণ ও দ্বীনি কাজগুলোতে তাদের অংশগ্রহন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, সমাজে সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বগণকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া জরুরি। দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়তে ব্যক্তির মর্যাদা নয়, যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা উচিত।

বক্তব্যের শেষ অংশে ডা. শফিকুর রহমান কর্মপরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের পাশাপাশি স্থানীয় আমীরদের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে বলেন।