রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিংবদন্তি সাদিও মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আনুষ্ঠানিক বিদায়

কখনও চোখধাঁধানো গতিতে প্রতিপক্ষের গড়া রক্ষণভাগ ভেঙেছেন, কখনও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে পুরো জাতিকে আনন্দে ভাসিয়েছেন — এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেনেগালের ফুটবলের আইকন ছিলেন সাদিও মানে। এবার তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে সেনেগালের শেষ-১৬ থেকে বিদায়ের পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড সরকারিভাবে জাতীয় দলে থেকে অবসরের কথা জানান। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে কোতিদিয়েনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মানে সবাইকে — দেশবাসী, সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং ক্যারিয়ার জুড়ে পাশে থাকা সবাইকে — আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আবেগঘন কথায় তিনি বলেছেন, দেশের পতাকার নিচে খেলতে সবসময় নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছিলেন এবং মাতৃভূমির জন্য প্রতিটি খেলায় প্রতিযোগিতা করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারায় তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।

মানে জাতীয় টিমের হয়ে মোট ১৩০টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৫৪টি গোল করে এখনো সেনেগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। গোলের বাইরে দলের নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং বড় ম্যাচে ঝাঁকড়া পারফরম্যান্সের জন্যও তিনি ব্যাপকভাবে সম্মানিত হয়েছেন।

সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসে মানের অবদান অনন্য। তার অধিনায়কত্বেই ২০২১ সালে দেশটি প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) জিতেছিল — যা গোটা দেশের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত এবং আফ্রিকান ফুটবলে সেনেগালের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তোলে।

তবে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও দেশের ফুটবলের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হবেন না এই তারকা। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সহায়তা করতে চান এবং প্রয়োজন হলে কোচিং বা প্রশাসনিক ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখছেন। দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে তার আগ্রহ রয়েছে — তাই অনেকেই মনে করেন তিনি বিভিন্নভাবে মাঠের বাইরে থেকেও দেশের ফুটবলের সেবায় থাকবেন।

শেষ পর্যন্ত, সাদিও মানে যখন জাতীয় জার্সি কেটে তুলে রাখছেন, তখন এক যুগ পার করে দেওয়া এক মনোবল ও অনুপ্রেরণার অধ্যায় বন্ধ হচ্ছে — কিন্তু তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার, আত্মত্যাগ এবং আদর্শ নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য দারুণ উদাহরণ হিসেবে থাকবে।