শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেরিনোর ঝলক: ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন

লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ মুহূর্তের নৈপুণ্যে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফিরল স্পেন। বদলি হিসেবে নামার মাত্র দুই মিনিটের কম সময়ের মধ্যে জোয়াসূচক গোল করে ম্যাচের বীজ বপন করেন মিকেল মেরিনো—আবারও তার ‘ম্যাজিক’ লা রোহাকে বড় অর্জনে পৌঁছে দিলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লামিনে ইয়ামাল, দানি অলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল ওইয়ারসাবালের ছোট ছোট কম্বিনেশন বেলজিয়ামের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ডান প্রান্ত থেকে ইয়ামালের গতি ও ড্রিবলিং বারবার বিপর্যয় তৈরির চেষ্টা করেছিল।

৩০ মিনিটে স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে। ইয়ামালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ডান থেকে উঠে আসা পেড্রো পোরোর নিচু ক্রসে প্রথম শটে থিবু কুর্তোয়া বল挡 করে দেন, কিন্তু ফিরতি শট সুযোগটা ছাড়েননি ফাবিয়ান রুইজ—কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।

গোলের পর বেলজিয়াম ধীরে ধীরে ফিরে আসে। জেরেমি ডোকু, কেভিন ডি ব্রুইন এবং শার্ল ডে কেতেলারের আক্রমণ-ব্যবস্থায় তারা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ৪১ মিনিটে ডি ব্রুইনার আক্রমণ গড়ার পরে ডান থেকে তুলে দেওয়া ক্রসে ডে কেতেলারে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্কোর সমতা ফেরান। এই গোলের সঙ্গে ছিল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—স্পেনের বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিটের ক্লিন শিট ব্রেক হয়ে গেল; শেষবার তারা গোল খেয়েছিল গত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে জাপানের বিরুদ্ধে।

বিরতির পর স্পেন আবারও চাপ বৃদ্ধি করে। ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফেরান তোরেসের চালচলনে বেলজিয়ামের রক্ষণব্যবস্থা ব্যস্ত থাকে, তবে থিবু কুর্তোয়া দুর্দান্ত সেভ করে দলকে টিকে রাখতে সহায়তা করেন। ৭১ মিনিটে কুর্তোয়া চোট পান এবং মাঠ ছেড়ে যেতে হয়; তাঁর স্থানে নামেন সেনে লামেন্স।

ম্যাচটি ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোছিল—তখনই স্যুটিং বদলি হিসেবে নামানো হয় মিকেল মেরিনোকে (৮৫তম মিনিট)। ৮৮ মিনিটেই রুখে দাঁড়ানো মুহূর্ত আসে: পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট লামেন্স ধরতে পারেননি, রিফ্লেক্সে পড়া বল ছয় গজের বক্সে এসেই মেরিনোর ডান পায়ের শক্ত শটে জালে চলে যায়। নামার মাত্র প্রায় ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে করা এই গোলটি স্পেনকে জয়ের কণ্ঠে নিয়ে আসে—বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো স্প্যানিশ বদলির করা দ্রুততম গোল হিসেবেও এটি চিহ্নিত হলো; পূর্বের রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালের এনরিকে সাউরারের ১৫৯ সেকেন্ড।

গোলের পরে বেলজিয়াম মরিয়া আক্রমণে ওঠে এবং রোমেলু লুকাকু সামনে রেখে সুযোগ খোঁজে, কিন্তু আইমেরিক লাপোর্তে ও স্পেনীয় রক্ষণব্যবস্থা তাদের আক্রমণকে দমিয়ে দেয়। শেষ সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনীয় খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠে।

টানা দুই নকআউট ম্যাচে বদলি হয়ে জয়সূচক গোল করার কৃতিত্ব এখন মেরিনোর কাঁধে—তিনি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ওপর যে ভরসা রাখেন, তা ফের প্রমাণ করলেন। মেরিনোর ওই গোলের কারণে ১৬ বছর পর লা রোহা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো এবং তারা এখন টানা ৩৬ ম্যাচ অপ্রতিরুদ্ধ অবস্থান বজায় রেখেছে। ফাইনালে ওঠার পথে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স; সেমিফাইনালের লড়াই হবে ১৪ জুলাই, ডালাসে।