সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা কখনও হারেনি

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে যাওয়াই যেন আর্জেন্টিনার জন্য ফাইনালের প্রবেশপত্র—পরিসংখ্যানও তাই বলছে। লাতিন আমেরিকার ফুটবলের বিশাল শক্তি আর্জেন্টিনা চলতি টুর্নামেন্টসহ বহুবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং শেষ চারে উঠলে প্রতিবারই তারা ফাইনালে পৌঁছেছে।

আজ (রোববার) কানসাসে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দলোরা। অন্য দিকে, নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ডও শেষ চারে رس হয়েছে। ফলে আগামী বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে—একটি প্রতীক্ষিত ক্লাসিক লড়াই।

ফুটবল বিশ্ব এখন এই দ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে আছে: একপাশে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন, অন্যদিকে সেমিফাইনালে অজেয় থাকার ঐতিহ্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ। চলুন এক নজরে দেখে নিই আর্জেন্টিনার পূর্ববর্তী সেমিফাইনালগুলো—যেগুলো থেকে তারা প্রত্যেকবার ফাইনালে উঠেছিল।

আর্জেন্টিনা ৬ : ১ যুক্তরাষ্ট্র (১৯৩০)

বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় এবং সেই টুর্নামেন্টে তারা রানের তৃতীয় ফলে জায়গা করে নেয়ার পথে শৈশবী শক্তি দেখায়।

আর্জেন্টিনা ২ : ০ বেলজিয়াম (১৯৮৬)

আজতেকা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেরা সময়—’হ্যান্ড অফ গড’ এবং ‘শতাব্দীর গোল’-ের পর বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে ম্যারাডোনা এককভাবে দলকে ফাইনালে নেন। ওই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।

ইতালি ১ : ১ আর্জেন্টিনা (টাইব্রেকার ৩-৪) (১৯৯০)

নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে কঠিন লড়াই; ১২০ মিনিট শেষে ১-১ সমতা থাকায় টাইব্রেকে সৌভাগ্য এবং গায়কোচেয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল।

নেদারল্যান্ডস ০ : ০ আর্জেন্টিনা (টাইব্রেকার ২-৪) (২০১৪)

করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় গোলহীন একটি সেমিফাইনাল শেষে টাইব্রেকারে সার্জিও রোমেরো দর্শনীয়ভাবে দু’টি শট রুখে লিওনেল মেসিকে ফাইনালের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন।

আর্জেন্টিনা ৩ : ০ ক্রোয়েশিয়া (২০২২)

লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির জাদু ও জুলিয়ান আলভারের জোড়া গোলের ফলে ক্রোয়েশিয়াকে শক্ত হাতে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

এবারের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সঙ্গে হবেই বড় পরীক্ষা—আত্মবিশ্বাস, টেকনিক ও মানসিক চাপ তিনেরই পরীক্ষার নাম এই ম্যাচ। যে দল কৌশলে ও মানসে ভালো সামলাতে পারবে, সেটিই ফাইনালের পথে বড় ধাক্কা দিতে পারবে।

সংক্ষেপে, আর্জেন্টিনার শেষ চারে ওঠার ইতিহাস আশ্চর্যজনকভাবে ফলপ্রসূ—প্রতিবারই তারা ফাইনালে পৌঁছেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না, তা দেখা বাকি। ফুটবলপ্রেমীরা আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন আগামী বুধবারের লড়াইয়ের জন্য।